জন্মের পর তার নাম রাখা হয়েছিলো ঋষি রাজ কাপুর। চলচ্চিত্রে এসে সেটা সংক্ষিপ্ত হয়ে ঋষি কাপুর নামেই সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
আর
রাজ?? সেটা তো তিনি করেছেনই সবার মনে, নিজের অভিনয়ের গুণে। ১৯৭০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের জন্য মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জিতে নিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার। তার
পরের গল্পটা শুধুই রাজত্বের।
এম্নিতেও বলিউডে কাপুর পরিবারের প্রভাবটা
সবচেয়ে বেশি। এই পরিবারের সন্তাদদের জন্মই যেনো বলিউডে ছড়ি ঘোরানোর জন্য। ঋষি
কাপুরের বাবা রাজ কাপুর থেকে শুরু করে হালের ক্রেজ রনবীর কাপুর বা কারিনা কাপুর
অথবা চিরতরুন অনিল কাপুর সবাই এই পরিবারের সদস্য। তবে তার মধ্যেও ঋষি কাপুর নিজের একটা আলাদা অবস্থান গড়ে নিয়েছিলেন নিজের
কর্মগুণে। বলিউডে তখন একচ্ছত্র ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন লিজেন্ড অমুতাভ বচ্চন। সেই রাজত্বে
পরিপূর্ণ ভাগ বসানোর সক্ষমতা ছিলো একমাত্র ঋষি কাপুরের। বলিউড শাহেনশার সাথে পাল্লা
দিয়ে উপহার দিয়ে গেছেন একেরপর এক হিট মুভি। পর্দায় যেমন দুইজনে একসাথে “আজুবা” এর
মত হিট ফিল্ম উপহার দিয়েছেন তেমনি পর্দার বাইরেও দুইজনের বন্ধুত্ব ছিলো উল্লেখ
করার মত।
১৯৭০ থেকে ২০২০। ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে
জিতে নিয়েছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। ব্যাক্তি ঋষি কাপুর ছিলেন একজন
অসাম্প্রদায়িক মনে অধিকারি। এমনকি তার কমেন্টের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে উগ্র
হিন্দুবাদিদের কাছে পরিচিত ছিলেন “beef-eating
Hindu” নামে। ২০১৭ সালে নিজের আত্মজীবনী “Khullam Khulla: Rishi Kapoor
Uncensored” প্রকাশ করেন ঋষি কাপুর।
![]() |
| D-Day মুভির একটি দৃশ্যে ঋষি কাপুর ও ইরফান খান |
২০১৮ সালে হুট করেই বোনমেরু ক্যান্সার ধরা পরে ঋষি
কাপুরের। একই বছর অসুস্থ হয়েছিলেন আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা ইরফান খান। সেই ইরফান
খানের মৃত্যুর পরের দিনই তারপ পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে গেলেন ঋষি কাপুর।
এ যেনো নক্ষত্র পতনের মিছিলে ডুবে যাচ্ছে বলিউড।



No comments:
Post a Comment