Thursday, April 30, 2020

ঋষি কাপুর- এক নক্ষত্রের পতন

ঋষি কাপুর- এক নক্ষত্রের পতন 


জন্মের পর তার নাম রাখা হয়েছিলো ঋষি রাজ কাপুর। চলচ্চিত্রে এসে সেটা সংক্ষিপ্ত হয়ে ঋষি কাপুর নামেই সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

 আর রাজ?? সেটা তো তিনি করেছেনই সবার মনে, নিজের অভিনয়ের গুণে। ১৯৭০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জিতে নিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার। তার পরের গল্পটা শুধুই রাজত্বের।


এম্নিতেও বলিউডে কাপুর পরিবারের প্রভাবটা সবচেয়ে বেশি। এই পরিবারের সন্তাদদের জন্মই যেনো বলিউডে ছড়ি ঘোরানোর জন্য। ঋষি কাপুরের বাবা রাজ কাপুর থেকে শুরু করে হালের ক্রেজ রনবীর কাপুর বা কারিনা কাপুর অথবা চিরতরুন অনিল কাপুর সবাই এই পরিবারের সদস্য। তবে তার মধ্যেও ঋষি কাপুর  নিজের একটা আলাদা অবস্থান গড়ে নিয়েছিলেন নিজের কর্মগুণে। বলিউডে তখন একচ্ছত্র ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন লিজেন্ড অমুতাভ বচ্চন। সেই রাজত্বে পরিপূর্ণ ভাগ বসানোর সক্ষমতা ছিলো একমাত্র ঋষি কাপুরের। বলিউড শাহেনশার সাথে পাল্লা দিয়ে উপহার দিয়ে গেছেন একেরপর এক হিট মুভি। পর্দায় যেমন দুইজনে একসাথে “আজুবা” এর মত হিট ফিল্ম উপহার দিয়েছেন তেমনি পর্দার বাইরেও দুইজনের বন্ধুত্ব ছিলো উল্লেখ করার মত।

১৯৭০ থেকে ২০২০। ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে জিতে নিয়েছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। ব্যাক্তি ঋষি কাপুর ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক মনে অধিকারি। এমনকি তার কমেন্টের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে উগ্র হিন্দুবাদিদের কাছে পরিচিত ছিলেন “beef-eating Hindu” নামে। ২০১৭ সালে নিজের আত্মজীবনী “Khullam Khulla: Rishi Kapoor Uncensored” প্রকাশ করেন ঋষি কাপুর।

D-Day মুভির একটি দৃশ্যে ঋষি কাপুর ও ইরফান খান
২০১৮ সালে হুট করেই বোনমেরু ক্যান্সার ধরা পরে ঋষি কাপুরের। একই বছর অসুস্থ হয়েছিলেন আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা ইরফান খান। সেই ইরফান খানের মৃত্যুর পরের দিনই তারপ পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে গেলেন ঋষি কাপুর।

এ যেনো নক্ষত্র পতনের মিছিলে ডুবে যাচ্ছে বলিউড।

Wednesday, April 29, 2020

ইরফান খান- বিশালতার বুকে এক শূন্যতা


ইরফান খান 




চলচ্চিত্রবোদ্ধারা প্রায়ই বলে থাকেন বলিউড হচ্ছে খানদের রাজত্ব। সেই রাজত্বের এক খান রাজপুত্র ছিলো যে কিনা বলিউডের গন্ডি ছাপিয়ে রাজত্ব করেছিলো সমগ্র চলচ্চিত্র দুনিয়ায়। তার না ছিলো শাহরুখ, আমির বা সালমান খানের মত লুকস বা ফিটনেস। তারপরেও শুধুমাত্র নিজের অভিনয় দক্ষতায় একেরপর এক বাজিমাত করে গেছেন সর্বত্র। শুধু কি বলিউড?? ভারতের বিখ্যাত প্রায় সবকয়টি চলচ্চিত্রপাড়ায় অভিনয় ছাড়াও অসংখ্য হিট মুভি দিয়েছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রপাড়া হলিউডে। নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন ঢাকার সিনেমাপাড়াতেও।



আমি ইরফান খানের কথা বলছি। যার অভিনয় দক্ষতার কথা যে কেউ স্বীকার করবে এক বাক্যে। অভিনয়ে একেরপর এক চমক দেখানো মানুষটা যে জীবনকেও চমক দেখিয়ে মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই চিরঅবসরে চলে যাবে সেটা কি কেউ ভেবেছিলো??

রাজা মহারাজাদের জন্মভূমি হিসেবে বহুকাল আগে থেকেই বিখ্যাত রাজস্থান। সেই রাজস্থানের জয়পুরে ১৯৬৭ সালের ০৭ জানুয়ারি জন্ম নিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের এই ক্ষণজন্মা রাজা। টায়ার ব্যবসায়ী বাবার সন্তান ইরফান ছোটোবেলায় ছিলেন অনেক ভালো ক্রিকেটার। সিকে নাইডু টুর্নামেন্টের জন্য নির্বাচিতও হয়েছিলেন কিন্তু ফান্ডের অভাবে আর খেলা হয়ে উঠে নি। তখনও অভিনয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিলো না।

জীবনের বাঁক ঘুরে গেলো ১৯৮৪ সালে। ইরফান খান তখন এমবিএতে পড়ছেন। সে সময়ে নতুন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে পাওয়া স্কলারশিপে ঘুরে যায় তার জীবনরেখা।

আর মাত্র এক মাস বাঁচবেন ইরফান!

পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ইরফান ছুটে গেলো মুম্বাই। সেখানে শুরুতে বেশ কিছু টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করলেও নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষের দেখা পাচ্ছিলো না ইরফান। মাঝে কিছু চলচ্চিত্রের ছোটখাটো রোলে অভিনয় করলেও তাতেও খুব বেশি কিছু করে দেখানর সুযোগও ছিলো না।

সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটা চলে আসে ২০০৫ সালে। সে বছর মহেশ ভাটের লেখা "রোগ" চলচ্চিত্রে লিড রোলে কাজ করার সুযোগ পান ইরফান। সেই থেকে শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে।সেই মুভিতে তার অভিনয় চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মুগ্ধ করে। কোনো কোনো চলচ্চিত্রবোদ্ধার মতে "ইরফান এর চোখ ওর কণ্ঠস্বরের চেয়েও জোরালো ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারে।

অবশ্য লিড রোলে অভিনয় করার আগের বছরই ২০০৪ সালে বেস্ট ভিলেন রোলের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হন ইরফান। এর পর প্রতিবছর শুধু পুরস্কারের ঝুলিটি সমৃদ্ধ হয়েছে।
বিভিন্ন ভাষার ৮৫ টি চলচ্চিত্র আর ২৩ টি টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করা ছাড়াও ইরফান খান অংশগ্রহন করেছেন দুইটি ভিডিও গেমসের গল্পেও। আর এর মাধ্যমে জয় করে নিয়েছেন অভিনয় জগতের সর্বোচ্চ সন্মান "একাডেমি এ্যাওয়ার্ড- অস্কার" ও "পদ্মশ্রী" সহ ৩২ টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

২০১৮ সাল। চারদিকে তখন ডিজিটাল প্লাটফর্মের জয়জয়জার। সব বাঘা বাঘা অভিনেতারাই সে সময় অনলাইন স্ট্রিমিং এর দিকে ঝুকছে নিজের পরতিভা দেখানোর জন্য। সেই সময়ে হঠাতই ইরফান খানের ক্যান্সার ধরা পরে। ফলে ডিজিটাল প্লাটফর্মের সোনালী সময় যেখানে উনার সেরা কাজগুলো করার সম্ভাবনা ছিল সেই সময়টাতে ভগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য বেশিরভাগ সময় উনাকে কাটাতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।

মায়ের খুব প্রিয় সন্তান ছিলেন ইরফান। ইরফানের মা গত ২৬ এপ্রিল মারা যাওয়ার পর নিজের অসুস্থতা আর করোনার কারনে মায়ের শেষ বিদায়েও সঙ্গী হতে পারে নি প্রিয় পুত্র। সেই অভিমানেই কিনা মায়ের মৃত্যুর ৩ দিনের মধ্যেই নিজেও চলে গেলেন না ফেরার ঠিকানায়। রেখে গেলেন একরাশ শূন্যতা।

বিশ্ব চলচ্চিত্র আপনার কাছে কৃতজ্ঞ ইরফান খান। পরপারে ভালো থাকবেন প্রিয় অভিনেতা। 

Sunday, April 19, 2020

চলে গেলেন ‘পপাই দ্য সেইলর ম্যান’ ও ‘টম অ্যান্ড জেরি’র পরিচালক

Image may contain: one or more people


জিন ডেইচ। নামে হয়তো উনাকে অনেকেই চিনবে না তবে উনার কর্মকে জানে না এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ৯০ এর দশকে জন্ম নেয়া মানুষদের কাছে উনার হাতের ছোঁয়ায় জীবন পাওয়া "টম এন্ড জেরি" ও "পপাই দ্যা সেইলর ম্যান" ছিলো সপ্নের মত চরিত্র।

"টম এন্ড জেরির" আটজন পরিচালকের মধ্যে সাতজন আগেই মারা গেছেন। শেষ জীবিত ছিলেন জিন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই শেষ হলো টম এন্ড জেরির কখনো না থামা লড়াইয়ের। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে জিন যুক্ত ছিলেন টম এন্ড জেরির প্রডাকশনে। 
কর্মজীবনের প্রথম ভাগে জিন নর্থ আমেরিকান এভিয়েশনে নকশাকার হিসেবে কাজ করতেন।

পাইলট হিসেবেও ট্রেনিংপ্রাপ্ত ছিলেন তিনি। মেডিক্যাল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ১৯৪৪ সালে এ কাজে তাকে ইস্তফা দিতে হয়। এরপর তিনি যুক্ত হয়ে যান শিল্প দুনিয়ায়।

‘‘সিডনি’স ফ্যামিলি ট্রি’’ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৫৮ সালে অস্কারের জন্য মনোনীত হন।

১৯৬০ সালে জিনের সিনেমা ‘মানরো’ সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নেয়। ১৯৬৪ সালে একই ক্যাটাগরিতে ‘নাডনিক’ ও ‘হাউ টু অ্যাভয়েড ফ্রেন্ডশিপ’ ছবির জন্য অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।

জিন ডেইচ

কর্মজীবনে এই অ্যানিমেটর টেরিটুনস, আন্ডার ২০ সেঞ্চুরি ফক্সের শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময়টাতে তিনি তৈরি করেন সিডনি এলিফ্যান্ট, গ্যাস্টন লে ক্রাইওন, ক্লিন্ট ক্লোবার এবং টেরেবল থম্পসনের মতো চরিত্র।
গত ১৬ এপ্রিল ৯৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন এই গুণী পরিচালক। 
ধন্যবাদ জিন ডেইচ। আমাদের শৈশবকে রঙ্গিন করে তোলার জন্য।  







একজন হুমায়ূন-চলচ্চিত্র যার প্রাণ

একজন হুমায়ূন-চলচ্চিত্র যার প্রাণ  শিল্পীর তুলিতে হুমায়ূন ফরিদী সেই ১৯৫২ সালের কথা। ২৯ মে এটিএম নূরুল ইসলাম ও বেগম ফর...