![]() |
| ইরফান খান |
আমি ইরফান খানের কথা বলছি। যার অভিনয় দক্ষতার কথা যে কেউ স্বীকার করবে এক বাক্যে। অভিনয়ে একেরপর এক চমক দেখানো মানুষটা যে জীবনকেও চমক দেখিয়ে মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই চিরঅবসরে চলে যাবে সেটা কি কেউ ভেবেছিলো??
রাজা মহারাজাদের জন্মভূমি হিসেবে বহুকাল আগে থেকেই বিখ্যাত রাজস্থান। সেই রাজস্থানের জয়পুরে ১৯৬৭ সালের ০৭ জানুয়ারি জন্ম নিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের এই ক্ষণজন্মা রাজা। টায়ার ব্যবসায়ী বাবার সন্তান ইরফান ছোটোবেলায় ছিলেন অনেক ভালো ক্রিকেটার। সিকে নাইডু টুর্নামেন্টের জন্য নির্বাচিতও হয়েছিলেন কিন্তু ফান্ডের অভাবে আর খেলা হয়ে উঠে নি। তখনও অভিনয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিলো না।
জীবনের বাঁক ঘুরে গেলো ১৯৮৪ সালে। ইরফান খান তখন এমবিএতে পড়ছেন। সে সময়ে নতুন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে পাওয়া স্কলারশিপে ঘুরে যায় তার জীবনরেখা।

পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ইরফান ছুটে গেলো মুম্বাই। সেখানে শুরুতে বেশ কিছু টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করলেও নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষের দেখা পাচ্ছিলো না ইরফান। মাঝে কিছু চলচ্চিত্রের ছোটখাটো রোলে অভিনয় করলেও তাতেও খুব বেশি কিছু করে দেখানর সুযোগও ছিলো না।
সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটা চলে আসে ২০০৫ সালে। সে বছর মহেশ ভাটের লেখা "রোগ" চলচ্চিত্রে লিড রোলে কাজ করার সুযোগ পান ইরফান। সেই থেকে শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে।সেই মুভিতে তার অভিনয় চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মুগ্ধ করে। কোনো কোনো চলচ্চিত্রবোদ্ধার মতে "ইরফান এর চোখ ওর কণ্ঠস্বরের চেয়েও জোরালো ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারে।
অবশ্য লিড রোলে অভিনয় করার আগের বছরই ২০০৪ সালে বেস্ট ভিলেন রোলের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হন ইরফান। এর পর প্রতিবছর শুধু পুরস্কারের ঝুলিটি সমৃদ্ধ হয়েছে।
বিভিন্ন ভাষার ৮৫ টি চলচ্চিত্র আর ২৩ টি টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করা ছাড়াও ইরফান খান অংশগ্রহন করেছেন দুইটি ভিডিও গেমসের গল্পেও। আর এর মাধ্যমে জয় করে নিয়েছেন অভিনয় জগতের সর্বোচ্চ সন্মান "একাডেমি এ্যাওয়ার্ড- অস্কার" ও "পদ্মশ্রী" সহ ৩২ টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
২০১৮ সাল। চারদিকে তখন ডিজিটাল প্লাটফর্মের জয়জয়জার। সব বাঘা বাঘা অভিনেতারাই সে সময় অনলাইন স্ট্রিমিং এর দিকে ঝুকছে নিজের পরতিভা দেখানোর জন্য। সেই সময়ে হঠাতই ইরফান খানের ক্যান্সার ধরা পরে। ফলে ডিজিটাল প্লাটফর্মের সোনালী সময় যেখানে উনার সেরা কাজগুলো করার সম্ভাবনা ছিল সেই সময়টাতে ভগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য বেশিরভাগ সময় উনাকে কাটাতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।
মায়ের খুব প্রিয় সন্তান ছিলেন ইরফান। ইরফানের মা গত ২৬ এপ্রিল মারা যাওয়ার পর নিজের অসুস্থতা আর করোনার কারনে মায়ের শেষ বিদায়েও সঙ্গী হতে পারে নি প্রিয় পুত্র। সেই অভিমানেই কিনা মায়ের মৃত্যুর ৩ দিনের মধ্যেই নিজেও চলে গেলেন না ফেরার ঠিকানায়। রেখে গেলেন একরাশ শূন্যতা।
বিশ্ব চলচ্চিত্র আপনার কাছে কৃতজ্ঞ ইরফান খান। পরপারে ভালো থাকবেন প্রিয় অভিনেতা।


No comments:
Post a Comment