Wednesday, September 4, 2019

নূর মোহাম্মদ- যে মৃত্যু গর্বের

Image result for বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ



৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

পাকিস্থানী হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ ততদিনে পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন যায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধবলধোলাই খেয়ে পাকিস্থানীদের তখন যাচ্ছেতাই অবস্থা। ততদিনে দেশের সীমান্তবর্তী অনেক এলাকাই মুক্তিযোদ্ধারা দখল করে মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। এমনই একটি মুক্তাঞ্চল ছিলো যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে আর এই মুক্তাঞ্চলের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ। অন্যান্য দিনের মত সেদিন সকালেও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যুহের বাইরে নিয়মিত পেট্রলিং করছিলো ৫ জনের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল আর সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন নূর মোহাম্মদ।
কিন্তু সেদিনের সকালটা অন্যান্য দিনের মত ছিলো না। সকাল সারে নয়টার দিকে হঠাৎই নূর মোহাম্মদ আর তার দলটি পাকিস্থানীদের এম্ব্যুশে পরে। তিনদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে শত শত পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ থেকে কভার ফায়ার৫ দিয়েও পেট্রল টিমকে পাকিস্থানীদের আওতা থেকে উদ্ধার করা যায়নি। এমন সময় পাকিস্থানীদের গুলিতে আহত হয় এলএমজির দায়িত্বে থাকা মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া। এ সময় অধিনায়ক নূর মোহাম্মদ এক হাতে নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন আরেক হাতে তার এলএমজি দিয়ে অনবরত ফায়ার করতে করতে পিছু হটতে থাকেন। এমন সময় পাকিস্থানিরা গুলিতে সুবিধা করতে না পেরে মর্টার ফায়ার শুরু করে। একটি মর্টার এর গোলা তার পাশে বিস্ফোরিত হলে ডান কাঁধে গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত হন নূর মোহাম্মদ।
গুরুত্বর আহত অবস্থাতেও নিজের কথা চিন্তা না করে সহযোদ্ধা সিপাহী মোস্তফাকে আদেশ দেন নান্নু মিয়াকে নিয়ে পিছু হটার জন্য। সহযোদ্ধারা তাকে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি অবস্থান ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। ইচ্ছা না থাকলেও অধিনায়কের আদেশ মানতে তাকে রেখেই পিছু হটে মুক্তিযোদ্ধারা। আর নূর মোহাম্মদ আহত অবস্থাতেই অনবরত গুলি করতে করতে পাকিস্থানিদের আটকে রাখলেন নিজের দিকে যেনো বাকি যোদ্ধারা নিরাপদে সরে যেতে পারে।
অসম যুদ্ধক্ষেত্রের একদিকে পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে একজন অর্ধমৃত সৈনিক (ই.পি.আর.) যাঁর সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি।
নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও বাঘটা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে থাকে হানাদারদের বিরুদ্ধে। মাত্র একজন সৈনিক একটি বিশাল বাহিনীর এতটাই ক্ষতিসাধন করে যে পাকিস্থানীরা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
আজ এই মহান বীরের মৃত্যুবার্ষিকী। তার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।


No comments:

Post a Comment

একজন হুমায়ূন-চলচ্চিত্র যার প্রাণ

একজন হুমায়ূন-চলচ্চিত্র যার প্রাণ  শিল্পীর তুলিতে হুমায়ূন ফরিদী সেই ১৯৫২ সালের কথা। ২৯ মে এটিএম নূরুল ইসলাম ও বেগম ফর...